1. onemediabd@gmail.com : Kazi Manir : Kazi Manir
  2. info@www.tubatvonline.com : - :
আমি যে শৈশব পাইনি, আমার ভাই যেন তা পায়’, ইয়ামালের আবেগঘন বার্তা - তুবা টিভি
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রে বসে ঢাকায় মাদকের ল্যাব পরিচালনা, দেশে ফিরে গ্রেফতার সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত সরদার ফারুক আহমেদ আবেগঘন পরিবেশে অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট সংযোজনের সময়সীমা নিয়ে যা জানালো বিআরটিএ আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে: তাহসিফের বাবা ডিভি লটারির জন্য বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন কি না, জানা যাবে আজ ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলো পুলিশ সদরদফতর পলাতক অবস্থায় মৃত্যু, সাঈদীর মামলার বাদীর দাফন নিয়ে যা জানা গেল বায়তুল মোকাররমে মিছিলের প্রস্তুতিকালে গ্রেফতার ১৯ আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার ফেরার সম্ভাবনা নেই: স্পিকার খুলনায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

আমি যে শৈশব পাইনি, আমার ভাই যেন তা পায়’, ইয়ামালের আবেগঘন বার্তা

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
  • ১৫৪ বার পড়া হয়েছে

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে মাঠের ফুটবলে যেমন রোমাঞ্চ ছড়াচ্ছেন ১৭ বছর বয়সী স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল, তেমনই গ্যালারি মাতিয়ে ইন্টারনেট দুনিয়ায় ঝড় তুলেছে তার ৩ বছর বয়সী সৎ ভাই কেইন। স্পেন টুর্নামেন্টের যত সামনের দিকে এগোচ্ছে, ক্যামেরার চোখ ততই আটকে যাচ্ছে গ্যালারির এই ছোট্ট শিশুটির দিকে।

দুই হাত ওপরে তুলে পরম আনন্দে তার ‘ভামোস’ (সাবাশ/এগিয়ে যাও) বলে চিৎকার করার দৃশ্য এখন ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আনন্দ উদযাপন করা কিংবা বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে স্টেডিয়ামের বড় স্ক্রিনে হাত নাড়া, সবখানেই এখন কেইনের নিষ্পাপ উপস্থিতি।

আর এর মাঝেই সে হয়ে উঠেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম বড় এক চমক।

কেইন ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ইয়ামালের মা শিলা এবানার ঘরে জন্মগ্রহণ করে।

দুই ভাইয়ের মা এক হলেও বাবা ভিন্ন। ফলে তাদের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরেরও বেশি।

ইয়ামাল যখন ছোট ছিলেন, তখনই তার বাবা-মা আলাদা হয়ে যান। ইয়ামাল মূলত গ্রানোইয়ার্সে তার মায়ের কাছে বড় হয়েছেন। পরবর্তীতে তার মা আবার বিয়ে করলে কেইনের জন্ম হয়।

এই বয়সের ব্যবধানের কারণে ইয়ামাল তার ছোট ভাইকে এমন একটি ভিন্ন পৃথিবীতে বড় হতে দেখছেন, যা তার নিজের কাটানো কঠিন শৈশব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ইয়ামাল নিজেই বলেছেন, ‘আমি এমন একটি ঘর থেকে এসেছি যেখানে রান্নাঘর আর শোবার ঘর একই জায়গায় ছিল। আজ আমি আমার মাকে সুখী দেখছি। আমি দেখছি আমার ভাই সেই শৈশবটা পাচ্ছে যা আমি নিজে পেতে চেয়েছিলাম; আর এটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়।’

বিশ্বকাপে শেষ ১৬-র ম্যাচে দুর্দান্ত খেলে যখন ইয়ামাল ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ হন, তখন ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে কোনো গোল বা কৌশল নিয়ে কথা বলেননি তিনি। তার পুরোটা জুড়ে ছিল ভাই আর পরিবার। ইয়ামাল আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছোট ভাইকে এতটা খুশি দেখতে পেয়ে আমি আবেগাপ্লুত। আমার মা এবং বন্ধুদেরও তাদের স্বপ্নের মতো জীবন কাটাতে দেখে খুব ভালো লাগছে। আমার ছোট ভাইই আমার সব। আমি তাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি; মনে হয় সে যেন আমার নিজেরই সন্তান।’

১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের এই অভিভাবকতুল্য দায়িত্বশীলতা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে যখন তিনি বার্সেলোনার সাথে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেন, তখনও তার পুরো পরিবার পাশে ছিল।

বিশ্বের অন্যতম চর্চিত তরুণ ফুটবলার হওয়ার চাপ কীভাবে সামলান এমন প্রশ্নে কামেনা এসইআরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেন, ‘আমার মা যখন ১৬ বছর বয়সী, তখন আমার জন্ম হয়। আমাদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য আমার বাবাকে কখনো কখনো রাস্তা থেকে জিনিসপত্রও কুড়াতে হতো। আমার কাছে ওটাই আসল চাপ, আমি এখন মাঠে যা পার করছি তা নয়।’

বিশ্বকাপের ক্যামেরায় ধরা পড়ার অনেক আগে থেকেই কেইন ছিল ইয়ামালের জীবনের ছায়াসঙ্গী। বার্সেলোনার ঘরের মাঠ ও অ্যাওয়ে ম্যাচের নিয়মিত মুখ সে। এমনকি ইয়ামাল যখন ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে প্যারিসে যান, তখনও রেড কার্পেটে কেইনকে দেখা গেছে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের বল নিয়ে খেলতে।

বার্সেলোনার মাসকট ‘সিএটি’-এর সাথে তার নাচ, লা লিগার ম্যাচ শেষে নিকো উইলিয়ামসের সাথে খুনসুটি কিংবা ইয়ামালের বিশাল জার্সি গায়ে জড়িয়ে গুটিগুটি পায়ে হেঁটে বেড়ানোর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় কোটি কোটি বার দেখা হয়েছে। মা শিলা এবানার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট, যার ফলোয়ার সংখ্যা এখন ৭ লক্ষেরও বেশি, সেখানে নিয়মিত কেইনের ছবি ও ভিডিও দেখা যায়। এমনকি বিভিন্ন ব্র্যান্ডও এখন এই শিশুকে নিয়ে কাজ করার আগ্রহ দেখাচ্ছে।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্পেনের ৩-০ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে কেইনের উল্লাসের ক্লিপটি স্প্যানিশ সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘মিম’-এ পরিণত হয়। স্পেনের খেলোয়াড়দের সব পরিবার গ্যালারির একই ব্লকে বসেন। ওই ম্যাচের পর এক্সে একজন ব্যবহারকারী রসিকতা করে অভিযোগ করেন, ‘সামনে থাকা স্বর্ণকেশী নারীটি খেলা দেখতে বাধা দিচ্ছেন।’ এর জবাবে স্পেনের স্ট্রাইকার বোরহা ইগলেসিয়াস কমেন্টে জানান, ওই ‘স্বর্ণকেশী নারী’ আসলে উইঙ্গার ওইয়ারছাবালের মা, যিনি ম্যাচে দুটি গোল দিয়েছেন!

এরপর বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সোফাই স্টেডিয়ামের বড় স্ক্রিনে কেইন যেভাবে হাত নেড়েছে, তা ছিল দেখার মতো। বড় বড় তারকা যেখানে ঘাবড়ে যান, সেখানে ৩ বছরের কেইন ছিল একদম স্বাচ্ছন্দ্য।

লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মোড়ানো এই বিশ্বকাপে গ্যালারিতে থাকা তার ছোট ভাইয়ের এই অকৃত্রিম আনন্দ পুরো গল্পটিকে একটি মানবিক রূপ দিয়েছে। ইয়ামালের কাছে কোনো ট্রফি বা পুরস্কারের চেয়েও বড় সান্ত্বনা, তার ছোট ভাই ও পরিবার আজ ভালো আছে।

সূত্র: বাংলানিউজ24.কম

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট