
বিশেষ প্রতিবেদক
রাজধানীর বাণিজ্যিক কেন্দ্র মতিঝিলে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে কথিত ফুটপাত চাঁদাবাজ চক্র। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে পরিচিত সাইফুল মোল্লা পুরোনো সিন্ডিকেটকে সঙ্গে নিয়ে নতুন কৌশলে মাঠে নেমেছেন। তার এই পুনরুত্থানকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী, হকার এবং রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, হাইকোর্ট, গুলিস্তান, পুরান পল্টন ও মতিঝিল এলাকার ফুটপাতকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন সাইফুল মোল্লা। অভিযোগ রয়েছে, বিগত ১৭ বছর বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি হকারদের জিম্মি করে ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ অর্থ আদায়ের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ফুটপাতে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়ার নামে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হতো। অনেকেই প্রতিবাদ করতে গিয়ে ভয়ভীতি, হয়রানি ও চাপের মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ফুটপাতে অবস্থান ধরে রাখতে অনেক হকারকে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয়েছে বলেও দাবি তাদের।
অভিযোগ রয়েছে, ফুটপাত ব্যবস্থাপনার আড়ালে গজ ও ফুট হিসেবে জায়গা বণ্টন করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হতো। এসব কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং একাধিক মামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও সম্প্রতি আবারও মতিঝিল এলাকায় পার্কিং ফি ও অন্যান্য খাতে অর্থ আদায়ের নামে তার অনুসারীদের সক্রিয় দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, এলাকাবাসীর দাবি, ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের স্থানকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি ও অবৈধ প্রভাব বিস্তার বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাইফুল মোল্লার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।