
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক তুলে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। একই সঙ্গে ছুঁয়েছেন মিরোস্লাভ ক্লোসার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ডও।
তবে এই ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের মাঝেও একটি বড় বিতর্ক দানা বেঁধেছে ফুটবল মহলে। ম্যাচের এক পর্যায়ে একটি বিপজ্জনক ফাউল করেও কোনো কার্ড না পাওয়ায় আর্জেন্টাইন অধিনায়কের কপাল ভালো ছিল কি না— তা নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে আর্জেন্টিনা যখন ১-০ গোলে এগিয়ে, তখন এই বিতর্কিত ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দির পায়ে একটি লেট চ্যালেঞ্জ (দেরিতে করা ট্যাকল) করেন মেসি।
রিপ্লেতে দেখা যায়, মেসির বুটের স্টাড (তলার অংশ) সরাসরি মান্দির কাফ মাসলের পেছনের অংশে আঘাত করে।
মাঠে থাকা রেফারি সিমন মার্চিনিয়াক ফাউলের বাঁশি বাজালেও মেসিকে কোনো হলুদ কার্ড দেখাননি।
এমনকি মারাত্মক ফাউলের জন্য ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিও রেফারিকে মাঠের রিভিউ দেখার কোনো পরামর্শ দেয়নি। অবশ্য প্রাথমিক চিকিৎসার পর মান্দি আবার খেলা চালিয়ে যেতে পেরেছিলেন।
রেফারির এই সিদ্ধান্তের পর মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেক ভক্তই প্রশ্ন তুলেছেন, আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা হওয়ার কারণেই কি মেসি এমন নরম সিদ্ধান্ত বা বাড়তি সুবিধা পেলেন?
এক ফুটবল ভক্ত এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘এটি ছিল পরিষ্কার লাল কার্ডের ঘটনা। অথচ ভিএআর চেকের পরও তাকে একটা হলুদ কার্ডও দেওয়া হলো না, হাস্যকর!’
অন্য একজন লিখেছেন, ‘আলজেরিয়ার ডিফেন্ডারের পায়ে অত্যন্ত নোংরা একটা ট্যাকল করেও পার পেয়ে গেলেন মেসি।’
অনেকেই মনে করছেন মেসির মহাতারকা ইমেজের কারণেই রেফারি কার্ড দেখানোর সাহস করেননি। এক সমর্থকের মতে, ‘সত্যি বলতে, অন্য কোনো ফুটবলার যদি এই ফাউলটি করত, তবে নিশ্চিতভাবেই তাকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হতো। মেসি পার পেয়েছে কেবল সে মেসি বলেই। এটা নিশ্চিত লাল কার্ড ছিল।’
শুধু সাধারণ দর্শকই নন, ফুটবল বিশ্লেষকেরাও রেফারির এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। ইএসপিএন ফুটবল অ্যানালিস্ট আলে মোরেনো সরাসরিই বলেছেন এটি লাল কার্ড ছিল। মোরেনোর মতে, ‘এটি শতভাগ লাল কার্ড ছিল। এই ঘটনাটি সেই পুরনো ধারণাকেই আবার সত্যি প্রমাণ করল যে, বড় তারকারা মাঠে সবসময় বাড়তি সুবিধা বা পক্ষপাতিত্ব পেয়ে থাকেন।’
তবে এই বড় বিতর্কটি শেষ পর্যন্ত আড়ালে চলে যায় মাঠের অন্য প্রান্তে মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সের কারণে। ৩৮ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি তিনবার আলজেরিয়ার জাল কাঁপিয়ে আর্জেন্টিনাকে এনে দেন সহজ জয়। আর এই হ্যাটট্রিকের সুবাদেই তিনি ক্লোসার পাশে বসে বিশ্বকাপের ইতিহাসে পুরুষ ফুটবলারদের মধ্যে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনটি নিজের করে নেন।
সূত্র: বাংলানিউজ24.কম