1. onemediabd@gmail.com : Kazi Manir : Kazi Manir
  2. info@www.tubatvonline.com : - :
কক্সবাজার আদালতে ‘আয়নাবাজি’: রমজানের অপরাধে সোনা মিয়ার মৃত্যুদণ্ড - তুবা টিভি
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রে বসে ঢাকায় মাদকের ল্যাব পরিচালনা, দেশে ফিরে গ্রেফতার সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত সরদার ফারুক আহমেদ আবেগঘন পরিবেশে অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট সংযোজনের সময়সীমা নিয়ে যা জানালো বিআরটিএ আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে: তাহসিফের বাবা ডিভি লটারির জন্য বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন কি না, জানা যাবে আজ ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলো পুলিশ সদরদফতর পলাতক অবস্থায় মৃত্যু, সাঈদীর মামলার বাদীর দাফন নিয়ে যা জানা গেল বায়তুল মোকাররমে মিছিলের প্রস্তুতিকালে গ্রেফতার ১৯ আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার ফেরার সম্ভাবনা নেই: স্পিকার খুলনায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার আদালতে ‘আয়নাবাজি’: রমজানের অপরাধে সোনা মিয়ার মৃত্যুদণ্ড

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৩৩ বার পড়া হয়েছে
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

২০২০ সালের ইয়াবা মামলার আসামি সোনা মিয়া আসলে রমজান, ২০২৬ সালে গ্রেপ্তার প্রকৃত সোনা মিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার
কক্সবাজারে এক লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ‘সোনা মিয়া’কে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, ২০২০ সালে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি এবং ২০২৬ সালে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর গ্রেপ্তার হওয়া সোনা মিয়া একই ব্যক্তি নন। ২০২০ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি অন্যের জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করে নিজেকে সোনা মিয়া পরিচয় দিয়েছিলেন। তার প্রকৃত নাম রমজান।
কারাগারে যাওয়ার পর প্রকৃত সোনা মিয়া বিষয়টি জানালে আদালতের নির্দেশে তদন্ত করে সদর থানা পুলিশ। গত ২ জুলাই আদালতে দেওয়া পুলিশের প্রতিবেদনে দুই ব্যক্তির পরিচয়, পারিবারিক তথ্য, শারীরিক গঠন ও শনাক্তকরণ চিহ্নে ব্যাপক অমিলের বিষয়টি উঠে আসে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলীর পাঠানো বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।
অভিযোগপত্রেই ছিল পরিচয় নিয়ে সন্দেহ
ঘটনাটি ২০২০ সালের ২ মার্চের। ওইদিন কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে এক লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। মামলার এজাহারে দ্বিতীয় আসামি হিসেবে ‘সোনা মিয়া’, পিতা নজির আহমদ, কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবদিয়াপাড়া এবং স্থায়ী ঠিকানা রামু উপজেলার গর্জনিয়া উল্লেখ করা হয়।
তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মানস বড়ুয়া ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, দ্বিতীয় আসামি সোনা মিয়ার নাম-ঠিকানা যাচাই করে সঠিক পাওয়া যায়নি। কক্সবাজার সদর ও রামু থানা পুলিশ দিয়ে অনুসন্ধান করেও তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এরপরও মামলার বিচার কার্যক্রমে ওই ব্যক্তিকে ‘সোনা মিয়া’ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।
জামিনের পর আত্মগোপন

নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৩ জুন ‘সোনা মিয়া’ কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন পান। জামিনে বের হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালত মামলার পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। রায়ের পর গত ২৩ জুন র‌্যাব-১৫-এর একটি দল ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে ‘সোনা মিয়া’কে গ্রেপ্তার করে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠায়।
কিন্তু কারাগারে যাওয়ার দুই-তিন দিন পর ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়।
‘আমি এই মামলার আসামি নই’
কারাগারে থাকা সোনা মিয়া জেল সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করে জানান, তিনি এক লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের মামলার আসামি নন। বিষয়টি জেল সুপার কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতকে অবহিত করেন।
এরপর আদালতের নির্দেশে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তি এবং ২০২৬ সালের ২৩ জুন গ্রেপ্তার হওয়া সোনা মিয়া একই ব্যক্তি নন।
পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, ২০২০ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি নিজের পরিচয় গোপন করে সোনা মিয়ার জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করেছিলেন। তার প্রকৃত নাম রমজান।
একই ক্যাম্পে ছিলেন রমজান ও সোনা
পুলিশের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রমজান ও সোনা মিয়া একই সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করতেন। পরে তারা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে কক্সবাজার শহরের কুতুবদিয়াপাড়ায় একই ঘরে বসবাস শুরু করেন। একপর্যায়ে সোনা মিয়ার জন্মনিবন্ধন কার্ড রমজানের কাছে থেকে যায়। সেই জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি ব্যবহার করেই রমজান নিজেকে সোনা মিয়া হিসেবে পরিচয় দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কারাগারের নথিতেও দুই ব্যক্তির ভিন্ন পরিচয়
কারাগারে সংরক্ষিত ২০২০ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তির পিতার নাম মৃত নজির আহমদ, মায়ের নাম সোনারা বেগম এবং স্ত্রীর নাম আয়েশা। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে ছিল। ছেলে মোহাম্মদ আলী। উচ্চতা ছিল ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং ওজন ৫০ কেজি। শনাক্তকরণ চিহ্ন হিসেবে বাম ও ডান গালে এবং ডান বাহুতে ক্ষতের উল্লেখ ছিল।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ২৩ জুন গ্রেপ্তার প্রকৃত সোনা মিয়ার পিতার নামও মৃত নজির আহমদ হলেও তার মায়ের নাম মাহমুদা খাতুন এবং স্ত্রীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস। তার এক ছেলে ও তিন মেয়ে। ছেলের নাম ওমর ফারুক এবং মেয়ের নাম নাহিদা। তার উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি এবং ওজন ৪২ কেজি। শনাক্তকরণ চিহ্ন হিসেবে ডান বাহুতে, পেটের বাম পাশে ও পিঠের মাঝখানে তিলের উল্লেখ রয়েছে।
তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বড় প্রশ্ন
ঘটনাটি সামনে আসার পর তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ, তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্রেই উল্লেখ করেছিলেন যে ‘সোনা মিয়া’র নাম-ঠিকানা যাচাই করে সঠিক পাওয়া যায়নি। এরপরও কীভাবে ওই পরিচয়ে থাকা ব্যক্তি জামিন পেলেন এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হলো—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল মন্নান বলেন, মামলা দায়ের থেকে অভিযোগপত্র দাখিল পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তার গাফিলতি রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। কোনো ব্যক্তি অন্যের জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করলে তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব।
তিনি বলেন, তদন্তেই যখন প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি, তখন যথাযথভাবে তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা না হওয়ায় প্রকৃত আসামি জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যান এবং পরবর্তীতে তার পরিবর্তে প্রকৃত সোনা মিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্ত্রীর দাবি, স্বামী কোনো মামলায় জড়িত নন
গ্রেপ্তার সোনা মিয়ার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস সাংবাদিকদের বলেন, তার স্বামী কখনও কোনো মামলায় জড়াননি এবং কারাগারেও যাননি। র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর পর তারা জানতে পারেন, এক লাখ ৯০ হাজার ইয়াবার মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, তার স্বামী রোহিঙ্গা নন, তিনি রামুর বাসিন্দা। কুতুবদিয়াপাড়ায় থাকার সময় রমজান নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার স্বামীর বন্ধুত্ব ছিল। ওই রমজানই ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছিল বলে তারা জানতেন।
আদালতের আদেশের অপেক্ষায় পরিবার
কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, আদালতের নির্দেশে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করেছে। ১২ আগস্ট মামলায় সোনা মিয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের দাখিল করা প্রতিবেদন নিয়ে আদালতে আদেশ হওয়ার কথা ছিল। তবে দুপুর ২টা পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
এদিকে আদালতের পরবর্তী আদেশের অপেক্ষায় রয়েছেন কারাগারে থাকা সোনা মিয়া ও তার পরিবার। একই সঙ্গে সামনে এসেছে গুরুতর প্রশ্ন—আসল রমজান কোথায়? আর তার অপরাধের দায়ে কেন প্রকৃত সোনা মিয়াকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাগারে থাকতে হচ্ছে?
সূত্র: ইত্তেফাক

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট