
আন্ডারওয়ার্ল্ডের নতুন ষড়যন্ত্র, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নেপথ্য নিয়ন্ত্রকদের ইশারায়: সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামল
বিশেষ প্রতিনিধি:
স্বাধীন সাংবাদিকতা ও অপরাধপ্রবণতার বিরুদ্ধে এক অদম্য লড়াইয়ের নাম সত্যের পক্ষে অবিচল অবস্থান। সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিল ও মুগদা মানিকনগর টিটিপাড়ায় আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘শুটার বাপ্পি’র চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি এবং তার সহযোগীদের গ্রেফতারের পর নেপথ্যের নিয়ন্ত্রকদের ইশারায় সাহসিকতার সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ করায় এবার এক অনুসন্ধানী গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় বলে জানা যায়।
মুগদা এলাকায় “হিমাচল এক্সপ্রেস” কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নোমানের কাছে শীর্ষ সন্ত্রাসী তানিম রেজা ওরফে ‘শুটার বাপ্পি’ দীর্ঘদিন ধরে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। একপর্যায়ে শুটার বাপ্পি দলবল নিয়ে সরাসরি নোমানের অফিসে প্রবেশ করে নগদ ১১ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং যাওয়ার সময় আরও ৩০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। এই চরম হুমকির মুখে ভুক্তভোগী নোমান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করেন। কোম্পানির সূত্রে সংবাদ পেয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদক মোঃ রাসেল সরকার তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগী নোমান সাহেবের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার বিস্তারিত শোনেন।
ভুক্তভোগীর উল্লেখিত বর্ণনা অনুযায়ী এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের ভুক্তভোগীদের সাহস না পাওয়ায় দেশ ও জাতির কল্যাণে মানবাধিকার রক্ষায় ভুক্তভোগীদের অনুরোধক্রমে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী এর প্রেক্ষিতে মুগদা থানায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ দমনে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মোঃ রাসেল সরকার নিজে থানায় হাজির হয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন এসআই আল-আমিন- মুগদা থানা- ডিএমপি। তবে অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসীরা বারবার ৩০ লক্ষ টাকা চাঁদার জন্য হুমকি দিতে থাকে।
থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না পেয়ে একপর্যায়ে তৎকালীন অবস্থিত মাঠ পর্যায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুলিস্তানে অবস্থিত ক্যাম্পকে অবগত করা হয়। মুগদা মানিকনগর টিটিপাড়া এলাকার হিমাচল এক্সপ্রেস বাস কাউন্টারে গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পুনরায় চাঁদা নিতে এলে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্যরা অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসী বাপ্পির সহযোগী আরিফ (৪২) ও শওকত (৪৫)-কে অস্ত্রসহ হাতেনাতে আটক করেন। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় (বর্তমানে তারা জামিনে মুক্ত রয়েছেন)।
গত ১৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একটি বিশেষ অভিযানে মতিঝিল এলাকা থেকে মূল শীর্ষ সন্ত্রাসী তানিম রেজা ওরফে ‘শুটার বাপ্পি’ ও তার আরও চার সহযোগীকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। রিমান্ড শেষে বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন।
রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে অপরাধীরা গ্রেফতার হলেও তাদের নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেট চক্রের দৌরাত্ম্য থামেনি। মতিঝিলের এই শীর্ষ সন্ত্রাসী শুটার বাপ্পি ও তার সিন্ডিকেটের নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার জের ধরে বাংলাদেশে অবস্থিত এবার ওই চক্রের মূল নিয়ন্ত্রকরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদক মোঃ রাসেল সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। মামলার রতদন্ত কর্মকর্তার সূত্রে জানা যায়, সিআর মামলা নম্বর ৩৪০/২৬ এই মামলার বাদী জাবেদ, ধারা: ৪৯৯/৫০৪/৩৪ দণ্ডবিধি
তদন্ত কর্মকর্তা, এসআই কামরুজ্জামান (ডিএমপি)।
এই মিথ্যা মামলা হয়রানির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ মানবাধিকার এবং সাংবাদিক সমাজ, সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দরা বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করলেই যদি আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাফিয়া ও অস্ত্রধারী ‘কন্ট্রোলারদের’ ইশারায় সাংবাদিকদের মিথ্যা মামলা বা হয়রানির শিকার হতে হয়, তবে কি পেশাগত দায়িত্ব পালন বন্ধ করে দেওয়া উচিত? এই প্রশ্ন আজ কেবল একজন সাংবাদিকের নয়, বরং সমগ্র স্বাধীন গণমাধ্যম ও বিবেকবান সমাজের সামনে এক বড় চ্যালেঞ্জ। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অপরাধ অনিয়ম এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী সোটার শুটার অষ্টধারি অস্ত্রধারি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো গণমাধ্যমের পবিত্র দায়িত্ব।
এ বিষয় নিয়ে সাংবাদিক রাসেল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আন্ডারওয়ার্ল্ড শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সম্রাজ্যের মুখোশ উন্মোচন করতে গিয়ে যদি সাংবাদিকদের এভাবে হয়রানির মুখে পড়তে হয়, তবে তা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মৌলিক মানবাধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। অপরাধী ও তাদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিলেও, নেপথ্যের কুশীলবরা যাতে মিথ্যা মামলা দিয়ে আইনি প্রক্রিয়াকে অপব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ নজরদারি জরুরি। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে সমাজ থেকে মাদক কারবারি, শীর্ষ সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। তাই সত্য প্রকাশে অবিচল থেকে সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সব ধরনের ভয়ভীতি, হামলা-মামলা ও হুমকি উপেক্ষা করে দেশ ও জাতির কল্যাণে সত্য প্রকাশে আমাদের কলম সবসময় সচল থাকবে।
তিনি আরও বলেন, শত হামলা, মামলা বা হুমকি-ধমকি দিয়ে কখনো সত্যের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। আমার কলম মাদক কারবারি, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে অতীতেও সচল ছিল, আজও সচল আছে এবং ভবিষ্যতেও সোচ্চার থাকবে। অপরাধ ও সন্ত্রাসী দমনে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি বিনীত অনুরোধ—বিষয়টি দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করুন। একইসঙ্গে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, দেশের ভেতরে লুকিয়ে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রকদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান।