1. onemediabd@gmail.com : Kazi Manir : Kazi Manir
  2. info@www.tubatvonline.com : - :
ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনের পরীক্ষিত সৈনিক মরহুম এম মাহবুবুর রহমান জামান: রাজনৈতিক জীবন ও ত্যাগের উপাখ্যান - তুবা টিভি
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রে বসে ঢাকায় মাদকের ল্যাব পরিচালনা, দেশে ফিরে গ্রেফতার সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত সরদার ফারুক আহমেদ আবেগঘন পরিবেশে অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট সংযোজনের সময়সীমা নিয়ে যা জানালো বিআরটিএ আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে: তাহসিফের বাবা ডিভি লটারির জন্য বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন কি না, জানা যাবে আজ ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলো পুলিশ সদরদফতর পলাতক অবস্থায় মৃত্যু, সাঈদীর মামলার বাদীর দাফন নিয়ে যা জানা গেল বায়তুল মোকাররমে মিছিলের প্রস্তুতিকালে গ্রেফতার ১৯ আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার ফেরার সম্ভাবনা নেই: স্পিকার খুলনায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনের পরীক্ষিত সৈনিক মরহুম এম মাহবুবুর রহমান জামান: রাজনৈতিক জীবন ও ত্যাগের উপাখ্যান

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ১২৪ বার পড়া হয়েছে

মো: রাসেল সরকার, বাংলাদেশ ​জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মরহুম এম মাহবুবুর রহমান জামান ছিলেন বিএনপির দুঃসময়ের রাজপথের একজন অগ্রণী এবং ত্যাগী রাজনৈতিক নেতা। ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে বিএনপির অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতোই তাকেও তীব্র রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তিনি ঢাকার রাজপথে দলীয় কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রামে সবসময় সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ​তাঁর পৈতৃক বাড়ি বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলায়।

ঢাকায় তিনি খিলগাঁও থানাধীন তালতলার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। খিলগাঁও, তালতলা ও এর আশেপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন বসবাসের কারণে স্থানীয় বিএনপি এবং যুবদলের নেতাকর্মীদের সাথে তাঁর একটি গভীর সাংগঠনিক ও আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এই খিলগাঁও-তালতলা অঞ্চল থেকেই তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় অবদান রাখতেন এবং রাজপথের আন্দোলনে ভূমিকা রাখতেন। ​

ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে বিএনপির শীর্ষ ও মধ্যম সারির যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে সাধারণভাবেই দলের বিভিন্ন কর্মসূচির (যেমন—হরতাল, অবরোধ ও সমাবেশ) পর বিভিন্ন থানায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা গায়েবি মামলা দায়ের করা হতো। যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা মরহুম এম মাহবুবুর রহমান জামানও রাজনৈতিক হয়রানি ও মামলার শিকার হন। শত প্রতিকূলতা ও মামলার ভয় উপেক্ষা করে তিনি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে সর্বদা শক্তিশালী করে গেছেন। তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও রাজপথের সক্রিয়তার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যুবদলের ১১৪ সদস্যের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটিতে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তিনি সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

​তৎকালীন সময়ে তিনি জাতীয়তাবাদী যুবদলের চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক কার্যক্রমের দায়িত্বে ছিলেন। কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালীসহ পুরো চট্টগ্রাম বিভাগে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দলীয় নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ করে তিনি সংগ্রামী ভূমিকা পালন করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে তাঁর সুদৃঢ় রাজনৈতিক সখ্য ও সুসম্পর্ক ছিল।
​
​২০২০ সালের শেষ ২০২১ সালের শুরুর দিকে খিলগাঁও থানাধীন তালতলার ভাড়া বাসায় তাঁর অকাল মৃত্যু হয়। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। বিদায়কালে তিনি স্ত্রী ও এক পুত্রসন্তান রেখে গেছেন। মৃত্যুর পর পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে তাঁর নিজ জেলা ঝালকাঠির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। দেশ বিদেশসহ রাজধানী ঢাকা, বরিশাল এবং তাঁর নিজ জেলা ঝালকাঠির স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁর রাজনৈতিক ত্যাগ ও অবদানকে স্মরণ করে শোক প্রকাশ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন।

​২০০৮ সালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে তাঁর সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয়। তৎকালীন সময়ে আমি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মার্শাল আর্ট স্কুল কুংফু ক্লাবে নিয়মিত প্র্যাকটিস করতাম এবং প্রতি শুক্রবার আমাদের ক্লাস হতো। তখন আমি সরাসরি কোনো রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম না। তিনিই আমাকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে পরিচিত ও অনুপ্রাণিত করেন। ২০১০ সাল থেকে তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমরা সবসময় একসাথে ছিলাম। সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে থেকেছি।

​জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে যুক্ত হওয়ার পর আমার জীবনেও বহু বিপদ, ঝড়-তুফান, জেল-জুলুম, অত্যাচার ও হয়রানি নেমে আসে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমাকে মিথ্যা মামলায় দুইবার কারাবাস করতে হয় এবং একবার গুমের শিকার হতে হয়। চরম দুর্দিনে থানা থেকে শুরু করে জেলহাজত ও আদালতপাড়া পর্যন্ত—সর্বত্র তিনি ছায়ার মতো আমার পাশে ছিলেন, কখনো আমাকে একা ছেড়ে যাননি। এক কথায়, আমার রাজনৈতিক জীবনে যদি কাউকে ওস্তাদ বলতে হয়, তবে তিনিই ছিলেন আমার সেই শ্রদ্ধেয় বড় ভাই ও পথপ্রদর্শক।
​
​মামলার চাপ ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলের আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত হননি এবং জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত যুবদলকে সুসংগঠিত করার কাজ করে গেছেন। তাঁর এই অকুতোভয় ভূমিকার কারণে আজও যুবদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। “বিদায়ে অশ্রু নয়, স্মৃতির আলোয় তোমায় রাখবো মনে”

​মহান আল্লাহর দরবারে আকুল প্রার্থনা, তিনি যেন এই প্রিয় মানুষটিকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করেন। আমিন।

বাংলাদেশ জিন্দাবাদ!
‘যুব-ঐক্য ও প্রগতি’
ইনকিলাব জিন্দাবাদ!

লেখক:
মোঃ রাসেল সরকার,
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী
চেয়ারম্যান, যুব-শক্তি সামাজিক আন্দোলন-বাংলাদেশ।
ঢাকা, ২১ জুলাই ২০২৬, খ্রি:

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট