
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর ডেমরায় মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় তুবা সমাজ কল্যাণ সোসাইটির দুই নেতার ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভা করেছে ঢাকা মহানগর মৎস্যজীবী দল। একই দাবিতে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তুবা সমাজ কল্যাণ সোসাইটি, ডেমরা থানা বিএনপি ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে তুবা সমাজ কল্যাণ সোসাইটি। সংগঠনটির দাবি, ডেমরা এলাকায় মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করার কারণেই গত ৪ জুলাই দিবাগত রাত ১২টার দিকে ডেমরার সারুলিয়ার টেংরা আলেপখান রোড এলাকায় সশস্ত্র হামলার শিকার হন তাদের দুই নেতা।
আহতরা হলেন—তুবা সমাজ কল্যাণ সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ডেমরা থানা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ডেমরা থানা মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম সুমন। ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল তাঁদের ওপর এই নৃশংস হামলা চালায়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগর মৎস্যজীবী দলের সভাপতি এস এম শাহ আলমের সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. রোবেল হোসেন।
সভায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তুবা সমাজ কল্যাণ সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এ ধরনের কাপুরুষোচিত ও নৃশংস হামলার মাধ্যমে মাদকবিরোধী আন্দোলনকে কোনোভাবেই দমিয়ে রাখা যাবে না।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর মৎস্যজীবী দলের সভাপতি এস এম শাহ আলম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেওয়ার কারণেই আমাদের নেতাদের ওপর এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ঘটনার পরও হামলায় জড়িত সব আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। অবিলম্বে সব আসামিকে আইনের আওতায় আনা না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। ডেমরায় কোনোভাবেই মাদক ব্যবসা চলতে দেওয়া হবে না এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও সাংগঠনিক প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে এই বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ডেমরা থানা বিএনপি ও এর সহযোগী অঙ্গ-সংগঠনগুলো। এ ছাড়া হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পূর্ব টেংরা পঞ্চায়েত কমিটির উদ্যোগে স্থানীয় এলাকাবাসী বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।
হামলার ঘটনায় আহত জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে ডেমরা থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—
লিটন ওরফে কাইল্লা লিটন, মনা, বিল্লাল,রাজু, আশরাফ, আলম, মিলন, ইন্দ্র, ডিজে জাহাঙ্গীর সবুজ ও কবির।
আসামিরা সবাই ডেমরার সারুলিয়া টেংরা এলাকার বাসিন্দা ও চিহ্নিত মাদক কারবারি বলে জানা গেছে।
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডেমরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাইফুর রহমান মির্জা জানান, ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ তৎপর রয়েছে। অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”