
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মুগদা থানার মানিকনগর এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, হামলা ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে সানি নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুলাই রাত প্রায় ১০টার দিকে মতিঝিল থেকে কর্মস্থল শেষে বাসায় ফেরার পথে মানিকনগর বিশ্বরোড সংলগ্ন জবা গলির সামনে এক চাকরিজীবীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় তার হাতে থাকা প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে রাস্তায় আছড়ে ভেঙে ফেলা হয়।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির সঙ্গে জড়িত। বাড়ি নির্মাণ বা সংস্কারের কাজ শুরু হলেই বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা।
স্থানীয়দের আরও দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত এবং তার নেতৃত্বে একটি কিশোর গ্যাং এলাকায় সক্রিয়। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে একজন আইন বিশেষজ্ঞ বলেন, প্রকাশ্যে হামলা, ভাঙচুর কিংবা চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। রাজনৈতিক পরিচয় কোনো ব্যক্তিকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেয় না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।
স্থানীয় বিএনপির এক নেতা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে বিএনপি বা স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। তিনি দাবি করেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে দলের কোনো সমর্থন নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনেক সময় কিছু সুবিধাবাদী ব্যক্তি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করে। এতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দলের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মুগদা-মানিকনগর এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত এ বিষয়ে অভিযুক্ত সানির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।