বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ৪৮টি দলই তাদের প্রথম ম্যাচ শেষ করেছে। ২৪টি ম্যাচ শেষে বেশ কিছু ম্যাচে ভয়াবহ ও বিপজ্জনক ফাউল দেখা গেলেও সেগুলো নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা বা সমালোচনা হয়নি। ডি গ্রুপের প্যারাগুয়ে-যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচ, গ্রুপ সি-এর ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচ এবং হাইতি-স্কটল্যান্ড ম্যাচে বেশ কিছু কঠিন ফাউল ঘটলেও বিশ্ব ফুটবলে সেগুলো নিয়ে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
তবে এর বিপরীতে আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচে লিওনেল মেসির একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। একই ধরনের বা আরও কঠিন ফাউল অন্য ম্যাচে ঘটলেও সেগুলো নিয়ে তুলনামূলকভাবে তেমন আলোচনা হয়নি। কিন্তু মেসির ঘটনাটি ঘিরে ফুটবল বিশ্বে চলছে তুমুল আলোচনা, বিশ্লেষণ ও সমালোচনা।
মেসির ফাউলের বিষয়টি সামনে আসার পর এমন আরও ৩টি ফাউলের দৃশ্যের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় সয়লাব হয়। যেখানে বলা হয় মেসির ফাউলের জন্য যদি লাল কার্ড হয় তাহলে এগুলোর জন্য কী হবে। সেখানে আরেকটি প্রশ্ন রাখা হয়, তবে কী মেসি তারকা বলেই এই ফাউলটি বেশি আলোচনায়। বাকিরা তারকা নয় দেখেই আলোচনায় নেই।
এদিকে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিশ্ব ফুটবলে ‘তারকা প্রভাব’ কাজ করে। বড় নাম জড়িত থাকলে ঘটনাগুলো দ্রুত ভাইরাল হয় এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে অখ্যাত খেলোয়াড়দের একই ধরনের ফাউল অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়।
এ প্রসঙ্গে ফ্রান্সের সাবেক তারকা থিয়েরি অঁরি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়ের অভিপ্রায় বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। রিপ্লে বিশ্লেষণে দেখা গেলে বোঝা যায়, মেসির মনোযোগ ছিল বলের দিকেই এবং সেখানে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষটি অনিচ্ছাকৃত হতে পারে। তার মতে, মাঠের প্রতিটি ধাক্কা বা সংঘর্ষকে সরাসরি লাল কার্ড হিসেবে দেখা উচিত নয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ফিফার নিয়ম এবং ফুটবলের আইনপ্রণেতা সংস্থা আইএফএবির নির্দেশনা অনুযায়ী বলা হয়েছে, কোনো ট্যাকল যদি অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেপরোয়া আচরণ বা প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের নিরাপত্তাকে গুরুতরভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলে, তবে সেটি সরাসরি লাল কার্ডের আওতায় পড়ে। বিশেষ করে সামনে, পাশ থেকে বা পেছন থেকে করা বিপজ্জনক ট্যাকল, যেখানে প্রতিপক্ষের শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, সেগুলোকে ‘মারাত্মক ফাউল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সূত্র: চ্যানেল24
চেয়ারম্যান : মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন, সিইও : মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদ
ঠিকানা : ৭৩, উত্তর যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
মোবাইল : ০১৯ ১১২৫ ১৯১০
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত